Sunday, 7 August 2016

পদক জয়ের আশা নিয়ে আজ রিওতে নামছেন বাঙালি জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার

পদক জয়ের আশা নিয়ে আজ রিওতে নামছেন বাঙালি জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার

 

রিও গেমসে পদক জয়ের স্বপ্ন উসকে দিয়ে রবিবার ওলিম্পিকসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করছেন ত্রিপুরার বাঙালি জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার। ২২ বছর বয়সী দীপা ওলিম্পিকসের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় মহিলা জিমন্যাস্ট হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। জিমন্যাস্টিকসে সবচেয়ে কঠিন প্রদুনোভা ভল্টে এর আগে আন্তর্জাতিক ইভেন্টে পদক জিতেছেন দীপা। যাকে জিমন্যাস্টিকসের পরিভাষায় বলে ডাবল ফ্রন্ট সামারসল্ট ভল্ট। আত্মবিশ্বাসী দীপা বলছেন, তিনি রবিবার নিজের ইভেন্টে নামার আগে অন্তত এক হাজারবার আনইভেন বার, বিম ও ফ্লোর এক্সারসাইজের পুনরাবৃত্তি করেছেন।
দীপার কোচ বিশ্বেশ্বর নন্দী বলেন, ‘দীপার মরণবাঁচন লড়াইটা ওর ইউ এস পি। যা ওকে আত্নবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় বারবার। দীপা কঠিন পরিশ্রম করেছে। নিজের ইভেন্টে ভালো করার জন্য ও লক্ষ্যে অটুট। শুধু ফোকাসটা ঠিক রেখে যেতে হবে।’ দীপা বলছেন, ‘ওলিম্পিকসে ভালো ফল করতে পারলেই আমার অতীত সাফল্য যথার্থ মূল্য পাবে।’ রিওতে পদক জিতে ভারতীয় জিমন্যাস্টিকসের নবজাগরণ ঘটাতে মরিয়া দীপা।
২০১৪ গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে প্রথম ভারতীয় মহিলা জিমন্যাস্ট হিসেবে পদক জেতেন দীপা। তারপর তাঁর ঝুলিতে রয়েছে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ব্রোঞ্জ। ত্রিপুরার ওয়েটলিফটিং কোচের কন্যা দীপা ২০১৫ জাতীয় গেমসে পাঁচটি সোনা জিতে সকলকে তাক লাগিয়ে দেন। গতবছর জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকসে ব্রোঞ্জ জিতে চমক দেন দীপা।
ছ’বছর বয়স থেকে জিমন্যাস্টিকস শুরু করেন দীপা কর্মকার। ফ্ল্যাট ফুটের জন্য তাঁকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে। সেখান থেকে তাঁর এই উচ্চতায় উঠে আসাটা বিরাট কৃতিত্ব। ১৪ বছর বয়সে জলপাইগুড়িতে অনুষ্ঠিত জুনিয়র ন্যাশনালে সোনা জেতার পরই তাঁর প্রতিভা সর্বসমক্ষে পরিচিতি পায়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে দীপার ঝুলিতে রয়েছে মোট ৭৭টি পদক। এরমধ্যে ৬৭টি সোনা। রিওতে আসার আগে দীপা দিনে আট ঘন্টা করে দুটি সেশনে প্র্যাকটিস করেছেন দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে। সেখানে একেবারে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে ট্রেনিং করেছেন।

No comments:

Post a Comment